কুষ্টিয়া সদর উপজেলার খাজানগর এলাকায় চাঁদার টাকা না পেয়ে ওমর ফারুক নামের এক আওয়ামী লীগ নেতার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এই হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল কর্মী হানিফ কবিরাজ ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ওমর ফারুক কুষ্টিয়া সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ এবং স্থানীয় ফ্রেশ অ্যাগ্রো অটো রাইস মিলের মালিক।
ওমর ফারুকের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে হানিফ কবিরাজ তাঁকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে তিন দফায় মোট ১৯ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেন। সম্প্রতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তাঁর কাছে আরও ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। বিষয়টি তিনি জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও কুষ্টিয়া-৩ আসনের প্রার্থী জাকির হোসেন সরকারকে জানালে হানিফ তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হন।
ঘটনার দিন বিকেলে ওমর ফারুক নিজ প্রতিষ্ঠানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় হানিফ ও তাঁর দলবল অতর্কিত হামলা চালায়। কেন তিনি চাঁদার বিষয়টি বিএনপি নেতাকে জানিয়েছেন—এই কৈফিয়ত চেয়ে তাঁকে ব্যাপক মারধর করা হয়। হামলার পর স্থানীয় এলাকাবাসী ও চালকল মালিকরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং কুষ্টিয়া-আলমডাঙ্গা আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এদিকে ঘটনার পর সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া-৩ আসনে বিএনপির পরাজিত প্রার্থী জাকির হোসেন সরকার তাঁর ফেসবুক পেজে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানান, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে হানিফ কবিরাজকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ যুবদল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাঁর কোনো অপকর্মের দায় দল নেবে না বলেও স্পষ্ট জানানো হয়।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর জানিয়েছেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। হামলার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে চাঁদাবাজির বিষয়ে এখনও কোনো সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ মেলেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
