ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করলেও ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদে’র সদস্য হিসেবে শপথ নিতে অস্বীকৃতি জানান। এর প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের সদস্যরা সংসদ সদস্য হিসেবেও শপথ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ মঙ্গলবার তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে জোটের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, আইন অনুযায়ী বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় ১১-দলীয় জোটের কোনো সদস্যই কোনো ধরনের শপথ নেবেন না। এই সিদ্ধান্তের ফলে নবনির্বাচিত সংসদের যাত্রা শুরুর প্রথম দিনেই বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হলো।
আসিফ মাহমুদ অন্য এক পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গণভোটের জনরায়কে প্রথম দিনেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে শুরু হলো নতুন সংসদের যাত্রা।” জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও গণভোটের মাধ্যমে প্রাপ্ত ম্যান্ডেট অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা রক্ষায় জামায়াত ও তাদের জোটসঙ্গীরা এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে বিএনপি থেকে জয়ী প্রার্থীরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন তাঁদের শপথ পাঠ করান এবং সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন। তবে বিএনপি শুরু থেকেই বলে আসছে, বর্তমান সংবিধানে সংস্কার পরিষদের কোনো আইনি ভিত্তি না থাকায় তাঁরা এই পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন না।
সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোটের এই শপথ বর্জনের ঘোষণা নতুন সরকার গঠনের প্রাক্কালে দেশব্যাপী চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি ও ১১-দলীয় জোটের মধ্যে এই রেষারেষি সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়া এবং সংসদের কার্যকারিতাকে দীর্ঘমেয়াদী সংকটে ফেলতে পারে।
