ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১০ আসন থেকে বিজয়ী বিএনপি নেতা শেখ রবিউল আলম রবিকে নবগঠিত মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ তিনটি মন্ত্রণালয়ের (সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে তাঁর এই নিয়োগ নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এর মূল কারণ হলো ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে ঘটে যাওয়া দীপ্ত টেলিভিশনের কর্মকর্তা তানজিল জাহান ইসলাম তামিম হত্যা মামলায় তাঁর অভিযুক্ত হওয়া।
ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর রাজধানীর রামপুরায়। মহানগর প্রজেক্ট এলাকায় একটি আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ফ্ল্যাটের মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে জমির মালিকের ছেলে ও দীপ্ত টিভির সম্প্রচার কর্মকর্তা তামিমকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় নিহত তামিমের বাবা ১৬ জনকে আসামি করে মামলা করেন, যেখানে আবাসন প্রতিষ্ঠান ‘প্লিজেন্ট প্রোপার্টিজ’-এর কর্ণধার ও বিএনপি নেতা শেখ রবিউল আলমকে ৩ নম্বর আসামি করা হয়েছিল।
তামিম হত্যাকাণ্ডের পর বিষয়টি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করলে বিএনপি তাৎক্ষণিকভাবে শেখ রবিউল আলমের দলীয় পদ স্থগিত করেছিল। মামলার তদন্ত চলাকালে তিনি গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন। তবে আইনি প্রক্রিয়ায় জামিন পাওয়ার পর ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১০ আসন থেকে ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নির্বাচনে তিনি ৮০,৪৩৬ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন।
সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর আজ তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভায় তাঁকে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। হত্যা মামলার একজন অভিযুক্ত আসামিকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের ভার দেওয়া নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠলেও বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, শেখ রবিউল আলম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার এবং তাঁর দক্ষতা বিবেচনায় এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এদিকে তামিমের পরিবার ও সংশ্লিষ্টরা এখনো এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার এবং সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব হওয়ার মতো অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সুরাহা দাবি করছেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া তার নিজস্ব গতিতেই চলবে এবং মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন বিচারকার্যকে প্রভাবিত করবে না।
