জুলাই বিপ্লবের শহীদদের সম্মান এবং গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা রক্ষায় নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান বর্জন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে এক বক্তব্যে দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে থাকা গুরুতর অভিযোগ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করেন।
ডা. শফিকুর রহমান জানান, জামায়াতের প্রস্তুতি ছিল মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার। কিন্তু সরকারি দল (বিএনপি) সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে শপথ নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তারা মানসিকভাবে বড় ধাক্কা খেয়েছেন। জুলাইয়ের শহীদদের প্রতি অশ্রদ্ধা জানানো হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই শত ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও জামায়াত এই অনুষ্ঠানে অংশ নেয়নি।
জামায়াত আমির বলেন, ২০২৬ সালের এই নির্বাচন মূলত ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ফসল। জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ও গণভোটের রায়কে জামায়াত একটি পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে গণ্য করেছে। তারা যখন শপথ নিতে যান, তখন জানতে পারেন সরকারি দল সংস্কার পরিষদের শপথ এড়িয়ে গেছেন। অথচ জামায়াত সদস্যরা এমপি এবং সংস্কার পরিষদ—উভয় পদের জন্যই শপথ নিয়েছেন।
সরকারি দলের কঠোর সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়া মানে জুলাই বিপ্লব ও জনআকাঙ্ক্ষাকে সরাসরি অবজ্ঞা করা। তিনি উল্লেখ করেন, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে ভোট চেয়েছেন। এখন সংস্কারের শপথ থেকে দূরে সরে থাকা জুলাইয়ের চেতনার বিপরীত অবস্থান। তাঁর মতে, জুলাই বিপ্লবকে পূর্ণ স্বীকৃতি ও সম্মান না দিয়ে এই সংসদ গৌরবের আসনে বসতে পারবে না।
বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি বলেন, যারা জুলাইকে সম্মান ও সংস্কারকে ধারণ করেন, তাদের অবশ্যই সংস্কার পরিষদের শপথ নেওয়া উচিত। জামায়াত জুলাই শহীদদের রক্তের সাথে বেঈমানি করতে পারবে না বলেই এই শপথে যায়নি। নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে জামায়াতের প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ না হলেও, তারা সবসময় ইতিবাচক ভূমিকার পাশে থাকবে বলে জানান তিনি।
