ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার মামলায় অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আবারও পিছিয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন ধার্য থাকলেও মামলার তদন্ত সংস্থা সিআইডি তা দাখিল করতে না পারায় আদালত আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা কোনো প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় আদালত এই সময় বৃদ্ধি করেন। ইতিপূর্বে ডিবি পুলিশের দেওয়া চার্জশিটে বাদীর ‘নারাজি’ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত সিআইডিকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ শেষে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে দুষ্কৃতিকারীরা হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পল্টনের বক্স কালভার্ট এলাকায় এই হামলার শিকার হয়ে তিনি গুরুতর আহত হন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হলেও গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি সেখানে মৃত্যুবরণ করেন।
হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গত ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় মামলা করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। ডিবি পুলিশ তাদের তদন্ত শেষে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীসহ ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেছিল। তবে বাদীপক্ষের অভিযোগ ছিল, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে আরও গভীর ষড়যন্ত্র ও প্রভাবশালী চক্র জড়িত রয়েছে, যা ডিবি পুলিশ এড়িয়ে গেছে।
তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং আসন্ন নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যেই হাদিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। চার্জশিটভুক্ত ১৭ আসামির মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদসহ ৫ জন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। আদালত আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি সিআইডিকে তাদের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
