অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া প্রতিরক্ষা খাতের বড় বড় চুক্তিগুলো পরবর্তী বিএনপি সরকার বহাল রাখবে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অন্তর্বর্তী সরকার দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আধুনিকায়ন করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—ইতালির কাছ থেকে ‘ইউরোফাইটার টাইফুন’ যুদ্ধবিমান সংগ্রহের চুক্তি এবং চীনের সাথে যৌথভাবে ড্রোন তৈরির কারখানা স্থাপনের রাষ্ট্রীয় চুক্তি। এছাড়া পাকিস্তান থেকে জেএফ-১৭ থান্ডার, চীন থেকে জে-১০সি যুদ্ধবিমান, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে সাবমেরিন এবং তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে উন্নত মানের হেলিকপ্টার কেনার আলোচনা ও উদ্যোগ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি ‘বিএনএস খালিদ বিন ওয়ালিদ’ যুদ্ধজাহাজের আধুনিকায়নে ৬৫০ কোটি টাকার বড় প্রকল্পও হাতে নেওয়া হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের এসব নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু মন্তব্য করেছেন যে, জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত না হয়েও এই সরকার ম্যান্ডেটের বাইরে গিয়ে বড় ধরনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা চুক্তির মতো সংবেদনশীল বিষয়ে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে পরামর্শ করা প্রয়োজন ছিল বলে মনে করে দলটি। তবে চুক্তির প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা থাকলেও, বিএনপি এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এসব চুক্তি বাতিলের কোনো ঘোষণা দেয়নি।
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এসব উদ্যোগকে একটি “চলমান প্রক্রিয়া” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, পরবর্তী সরকার চাইলে এগুলো এগিয়ে নাও নিতে পারে, তবে সেটি সম্পূর্ণ অনুমাননির্ভর বিষয়। অন্যদিকে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধরনের আন্তর্জাতিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তি বাতিল করা আইনগত এবং কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত জটিল। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সাম্প্রতিক সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় সংক্রান্ত চুক্তিটি ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য একটি বাধ্যবাধকতা তৈরি করতে পারে, যা বাতিল করলে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অবনতি ও অর্থনৈতিক ক্ষতির ঝুঁকি থাকে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি ক্ষমতায় এলে তারা হয়তো এই চুক্তিগুলো সরাসরি বাতিল না করে ‘পুনর্নিরীক্ষণ’ (Review) করতে পারে। চুক্তিগুলো পুরোপুরি বাতিল করলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সাথে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজেদের সমালোচনা জায়েজ রাখতে বিএনপি এই প্রকল্পগুলোর স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে তদন্ত বা যাচাইয়ের পথে হাঁটতে পারে। শেষ পর্যন্ত বিএনপি কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা নির্ভর করবে তৎকালীন অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং মিত্র দেশগুলোর সাথে তাদের সমসাময়িক সম্পর্কের ওপর।
