ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের দেড় বছর পর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে প্রকাশ্যে কর্মসূচি পালন করেছেন আওয়ামীপন্থি সাংবাদিকরা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগের পর এই প্রথম তারা প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ো হয়ে মানববন্ধন করেন।
এ সময় ‘জয় বাংলা’ ও ‘জয় বঙ্গবন্ধু’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায় তাদের। নতুন সরকার গঠনের চার দিনের মাথায় শনিবার এ কর্মসূচি পালিত হয়। সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে মিছিল-স্লোগান দেওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) আওয়ামী অংশের সভাপতি সাজ্জাদ আলম খান তপু ও সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন সাংবাদিক ভোরে প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ো হন। সেখানে সংক্ষিপ্ত মানববন্ধন শেষে তারা একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে তারা আবার প্রেস ক্লাবে ফিরে এসে ডিইউজের তালাবদ্ধ কার্যালয় খুলে দেওয়ার দাবি তোলেন। এ সংক্রান্ত ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) আওয়ামী অংশের সাবেক মহাসচিব শাবান মাহমুদ সামাজিক মাধ্যমে এ কর্মসূচিকে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে এ কর্মসূচির সমালোচনা করেন এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আওয়ামীপন্থি সাংবাদিক ইউনিয়নের কার্যালয় ভাঙচুর ও তালাবদ্ধ করা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে তা বন্ধ রয়েছে।
এদিকে জুলাই রেভলুশনারি জার্নালিস্টস অ্যালায়েন্স (জেআরজেএ) এক বিবৃতিতে এ কর্মসূচির নিন্দা জানিয়েছে। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ইসরাফিল ফরাজী বলেন, গণঅভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া হবে না। তারা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
জেআরজেএ আরও দাবি করে, প্রেস ক্লাবে স্লোগান দেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকেই বিভিন্ন মামলার আসামি। দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয় বিবৃতিতে।
এদিকে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার মধ্যেও বিভিন্ন স্থানে দলীয় অফিস খোলার চেষ্টা ও ঝটিকা মিছিলের খবর পাওয়া যাচ্ছে। সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।ঘটনাটি কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।
