প্রতিষ্ঠার এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই ভাঙনের মুখে পড়েছে জুলাই বিপ্লবের শক্তির রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ’ বা ‘আপ বাংলাদেশ’। সংগঠনটির ভেতরে নীতিগত দ্বন্দ্বে এটি এখন দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। একটি অংশ নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের পথে হাঁটলেও অন্য অংশটি বিদ্যমান কোনো দলে যুক্ত হওয়ার কথা ভাবছে।
সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, আপ বাংলাদেশকে রাজনৈতিক দলে রূপান্তর করা নিয়ে নেতাদের মধ্যে মতভেদ তৈরি হয়। দল গঠনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে গঠিত কমিটি ইতিবাচক রিপোর্ট দিলেও আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ ও প্রধান সমন্বয়কারী রাফে সালমান রিফাতসহ শীর্ষ নেতাদের একটি অংশ এখনই দল গঠনে আগ্রহী নন। তারা প্ল্যাটফর্মটিকে একটি ‘প্রেসার গ্রুপ’ হিসেবে সীমাবদ্ধ রাখার পক্ষে।
অন্যদিকে, প্রধান সংগঠক নাঈম আহমাদের নেতৃত্বে একটি বড় অংশ নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। নাঈম আহমাদ জানিয়েছেন, জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা থেকে দ্রুতই নতুন এই দলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে। আপ বাংলাদেশ মূলত একটি সিভিল সোসাইটি বা নাগরিক গ্রুপ হিসেবে টিকে থাকবে।
রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন রয়েছে যে, আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সাবেক দুই সভাপতিসহ একটি বড় অংশ জুলাইয়ের শক্তির দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ (এনসিপি)-তে যোগ দিতে পারেন। এনসিপি সূত্রও ইঙ্গিত দিয়েছে যে, সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে পুরোনো ও গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন জানিয়েছেন, বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মকে একত্রিত করে মধ্যপন্থার রাজনীতি শক্তিশালী করার পরিকল্পনা তাদের রয়েছে। আপ বাংলাদেশের নেতাদের সাথে একত্রিত হওয়ার বিষয়টি দলের নির্বাহী কমিটি ও সাধারণ সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত হতে পারে।
এই ভাঙন ও সম্ভাব্য মেরুকরণকে কেন্দ্র করে জুলাই বিপ্লব পরবর্তী নতুন ধারার রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নাগরিক কমিটি থেকে বের হয়ে আপ বাংলাদেশ গঠনকারী নেতাদের এনসিপিতে ফেরা দলটিকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
