ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর কার্যালয় খোলার ঘটনা বাড়ছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে সেখানে শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি টাঙিয়ে ফুল দেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে।
কোথাও জাতীয় পতাকার পাশাপাশি দলীয় পতাকা উত্তোলন, ব্যানার টাঙানো ও স্লোগান দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অনেক জায়গায় পরিত্যক্ত অফিস পরিষ্কার করে কার্যক্রম শুরুর ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। এতে কয়েকটি এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
এদিকে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেছেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের তৎপরতা চলতে দেওয়া হবে না। পুলিশ সদরদপ্তরে ভার্চুয়াল সভায় তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন।
বিভিন্ন জেলায় ঘটনা
পঞ্চগড়: স্থানীয় এক নেতার উপস্থিতিতে একটি কার্যালয়ের তালা খোলার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ধানমন্ডি, ঢাকা: কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও স্লোগান দেওয়ার ভিডিও প্রকাশিত হয়।
যশোর: জেলা কার্যালয়সহ দুটি অফিসে শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি টাঙানো হয়; পরে পুলিশ ব্যানার সরিয়ে নেয়।
কুমিল্লা (বুড়িচং ও নাঙ্গলকোট): দলীয় অফিসে অবস্থান নেওয়ার ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কুড়িগ্রাম: ব্যানার ও পতাকা উত্তোলনের পর প্রতিপক্ষ ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা গিয়ে তা অপসারণ ও ভাঙচুর করে।
খুলনা: দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কার্যালয় খুলে প্রবেশের পর রাতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
কালকিনি (মাদারীপুর): কার্যালয় খুলে কেক কাটার ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
পূর্বধলা (নেত্রকোনা) ও বেতাগী (বরগুনা): কার্যালয়ের সামনে ব্যানার টাঙানো ও তালা ভেঙে ছবি স্থাপনের খবর পাওয়া গেছে।
পুলিশ বলছে, কোথাও আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
