অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে বঙ্গভবনে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, দায়িত্ব পালনকালে প্রধান উপদেষ্টা বারবার সাংবিধানিক বিধান অনুসরণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি জানান, প্রধান উপদেষ্টা এ পর্যন্ত ১৪ থেকে ১৫ বার বিদেশ সফরে গেলেও একবারও ফিরে এসে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি বা সফরের ফলাফল সম্পর্কে অবহিত করেননি। সংবিধান অনুযায়ী, বিদেশ সফর থেকে ফিরে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করা বাধ্যতামূলক হলেও ড. ইউনূস তা মানেননি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি আরও দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতর থেকেই তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়েছিল। এমনকি বঙ্গভবনের সামনে যখন উত্তেজনাকর পরিস্থিতি (মব) সৃষ্টি করা হয়, তখনও তিন বাহিনীর প্রধানগণ তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, কোনো অসাংবিধানিক কর্মকাণ্ড হতে দেওয়া হবে না।
সংকটকালীন সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা প্রসঙ্গে মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব সংবিধানের ধারাবাহিকতা রক্ষার প্রশ্নে তাঁর পাশে ছিলেন। বিশেষ করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি নিজের ব্যক্তিগত ধারণা পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, “তিনি খুবই আন্তরিকতাপূর্ণ মানুষ। আমার দুঃসময়ে বিএনপির সহযোগিতা শতভাগ ছিল।”
রাষ্ট্রপতি সেই কঠিন সময়ে সশস্ত্র বাহিনীর জোরালো ভূমিকার প্রশংসা করে জানান, সামরিক নেতৃত্ব তাঁকে মনোবল জুগিয়েছেন এবং যেকোনো মূল্যে সাংবিধানিক শূন্যতা রোধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তাঁর মতে, তৎকালীন সময়ে অনেক অধ্যাদেশ জারির কোনো প্রয়োজন ছিল না এবং পুরো প্রক্রিয়াটি সংবিধান মেনে সম্পন্ন হয়নি।
