নোয়াখালীর সুবর্ণচরে চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় মোশাররফ হোসেন নামে এক বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের নোমান বাজার এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত মোশাররফ বর্তমানে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর মাথায় তিনটি গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে এবং সেখানে মোট ২০টি সেলাই দিতে হয়েছে। এ ছাড়া লোহার রডের আঘাতে তাঁর ডান হাতের কবজির হাড় ভেঙে গেছে।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম ওরফে দিদার মাঝির নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মোশাররফের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলার পর তাঁর কাছে থাকা নগদ ১০ হাজার টাকা ও দুটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে তাঁকে রাস্তার পাশের পানিতে ফেলে দেওয়া হয়।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই আব্দুল জব্বার বাদী হয়ে চরজব্বার থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় যুবদল নেতা দিদার মাঝিসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে কিরিচ, রামদা ও লোহার রড দিয়ে হামলার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে যুবদল নেতা দিদারুল আলম হামলার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, মোশাররফকে স্থানীয় কৃষকরা মারধর করেছে এবং তিনি এই ঘটনার সাথে কোনোভাবেই জড়িত নন।
চরজব্বার থানা পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে ওই এলাকায় এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
