জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে প্রথম সিলেট সফরে এসে সরকারি প্রটোকলের গাড়ি ব্যবহার না করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির আমির এবং সিলেট তার নিজ শহর।
শুক্রবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে ঢাকা থেকে বিমানযোগে সিলেটে পৌঁছান তিনি। সিলেট এম এ জি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর দেখা যায়, তাকে আনতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি সরকারি প্রটোকল গাড়ি ও একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) অপেক্ষা করছেন।
বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে গাড়িটি দেখে তিনি জানতে চান, এটি সরকারি গাড়ি কি না। নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি সেটি ফিরিয়ে দিয়ে বলেন, “আমি ১২ তারিখের পরে চড়ব। আপনারা এসেছেন, আমি কৃতজ্ঞ। আমি পাওয়ার এক্সারসাইজ করতে চাই না। ইনশাআল্লাহ ১২ তারিখের পর চড়ব।” ইঙ্গিত ছিল, সংসদ অধিবেশন শুরুর পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রটোকল সুবিধা গ্রহণ করবেন।
বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে সেদিন সিলেটে তার ব্যস্ত সূচি ছিল। জুমার আগে একটি কমিউনিটি সেন্টারে সিলেট জেলা জামায়াত আয়োজিত ‘শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য শিক্ষা শিবির’ সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। পরে নগরের কুদরতউল্লাহ জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন এবং সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নতুন মন্ত্রিসভা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারি দলের কিছু মন্ত্রীর ‘কাঁচা কথাবার্তা’ সমাজে অস্থিরতা তৈরি করছে এবং তা অপরাধ প্রবণতাকে উসকে দিতে পারে। দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য অব্যাহত থাকলে দেশ ইতিবাচক পথে এগোবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতির অভিশংসন প্রসঙ্গে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে এখনো বড় পরিসরে আলোচনা হয়নি। সব দিক বিবেচনা করে দেশের জন্য মঙ্গলজনক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিকেলে তিনি সুবিদবাজারে সিলেট প্রেসক্লাব আয়োজিত ইফতার মাহফিলে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগ দেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
পরে বিকেল ৫টা ২৫ মিনিটে প্রেসক্লাব থেকে রওনা হয়ে আমান উল্লাহ কনভেনশন সেন্টারে সিলেট মহানগর জামায়াত আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন তিনি।
