ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ হরমুজগানের মিনাব কাউন্টিতে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ইসরায়েলি ও মার্কিন যৌথ বাহিনীর ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৫১ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইরনা’ (IRNA) ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মিনাবের ‘শাজারেয়ে তায়্যিবাহ’ (Shajareye Tayabeh) নামক একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। হামলার সময় স্কুলটিতে অন্তত ১৭০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। হামলায় আরও ৬০ জনের বেশি শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে।
মিনাব কাউন্টির গভর্নর মোহাম্মদ রাদমেহর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, উদ্ধার অভিযান এখনো চলমান রয়েছে এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেক শিক্ষার্থী চাপা পড়ে আছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তেহরান এই হামলাকে ‘নির্বিচার এবং কাপুরুষোচিত বেসামরিক হত্যা’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই হামলাকে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র (Operation Epic Fury) অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁদের দাবি, এটি একটি ‘প্রি-এম্পটিভ স্ট্রাইক’ বা প্রতিরোধমূলক আক্রমণ, যা ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংসের উদ্দেশ্যে চালানো হয়েছে। তবে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ধরনের ভয়াবহ হামলার ঘটনা বিশ্বজুড়ে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
বর্তমানে ইরানের আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে পাল্টা হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা এখন এক পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।
