ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবে গত রাতে ইরানের চালানো নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৪০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে শহর কর্তৃপক্ষ। রবিবার (১ মার্চ) ভোরে চালানো এই শক্তিশালী পাল্টা হামলায় পুরো শহরজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র ফুটে উঠেছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ও উদ্ধারকারী সংস্থা মাগেন ডেভিড অ্যাডম (MDA) নিশ্চিত করেছে যে, ইরানের ছোঁড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি তেল আবিবের একটি জনবহুল আবাসিক ভবনে আঘাত হানে। এতে অন্তত একজন নারী নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২১ জন। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
তেল আবিব জেলা ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ কমান্ডার জানিয়েছেন, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একটি বহুতল ভবন আংশিক ধসে পড়েছে এবং সেখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা রাতভর চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে আশেপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকার ঘরবাড়ির জানালা ও কাঁচ ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে।
শহর কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত ৪০টি ভবন এই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কিছু ভবন বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ইসরায়েলি পুলিশ এবং উদ্ধারকারী দলগুলো এখন প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে তল্লাশি চালাচ্ছে যাতে ধ্বংসস্তূপের নিচে আর কেউ আটকে না থাকে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এই হামলাকে ‘অপারেশন ট্রুথফুল প্রমিজ ৪’-এর অংশ হিসেবে দাবি করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাহাদাতের প্রতিশোধ হিসেবে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। ইসরায়েলের শক্তিশালী ‘আয়রন ডোম’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অনেক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করলেও বেশ কিছু লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে ইরান।
বর্তমানে পুরো তেল আবিবজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও অনিয়ন্ত্রিত ও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
