ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সোমবার (২ মার্চ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও প্রচলিত রীতির এক জঘন্য লঙ্ঘন। বাংলাদেশ এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় শোকসন্তপ্ত ইরানি জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছে।
গত শনিবার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। রোববার ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে এই খবর নিশ্চিত করার পর আজ বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এই আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হলো। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনো একক ব্যক্তিত্বকে লক্ষ্যবস্তু করে এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের বিবৃতিতে সরাসরি হামলাকারী কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করলেও জানিয়েছে যে, কোনো সংকটের সমাধান কখনোই সংঘাতের মাধ্যমে আসতে পারে না। বরং আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখা এবং পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখে আলোচনার মাধ্যমেই যেকোনো সমস্যার সমাধান খোঁজা উচিত বলে মনে করে বাংলাদেশ।
উল্লেখ্য, খামেনিকে হত্যার উদ্দেশ্যে পরিচালিত ওই অভিযানে প্রায় ‘৩০টি শক্তিশালী বোমা’ নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ইরান ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
এর আগে গতকাল রোববার দেওয়া অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছিল ঢাকা। বাহরাইন, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত ও সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে সামরিক তৎপরতার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ জানিয়েছে, আঞ্চলিক শান্তি রক্ষায় সংযম প্রদর্শন করা এখন সময়ের দাবি।
