রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী আজ সোমবার (২ মার্চ) সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। প্রতিদিনের মতো সকালে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার কিছু সময় পরই তিনি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
একই দিনে দেশের আর্থিক খাতে আরও বড় দুটি পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে। বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান এম আসলাম আলম এবং সাধারণ বীমা করপোরেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারীও নিজ নিজ পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। একদিনে তিন শীর্ষ কর্মকর্তার প্রস্থান নিয়ে প্রশাসনিক ও আর্থিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
সোনালী ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় নির্বাচনের পর পুরো ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে ব্যাংকটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর বদলি সংক্রান্ত বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষ থেকে প্রচণ্ড চাপ ছিল। বিশেষ করে বঞ্চিত দাবি করা একদল কর্মকর্তা নিজেদের পছন্দের জায়গায় বদলির দাবি তুলে আসছিলেন। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি চাপের মুখে থাকা সাত কর্মকর্তাকে ঢাকার বাইরে বদলি করা হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যা শেষ পর্যন্ত চেয়ারম্যানের পদত্যাগের পরিবেশ তৈরি করে।
তদারকি সংস্থা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সঙ্গেও মুসলিম চৌধুরীর সম্পর্ক খুব একটা সহযোগিতামূলক ছিল না বলে জানা গেছে। যদিও মুসলিম চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, তাঁর এই প্রস্থান একান্তই ব্যক্তিগত কারণে। ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট নিয়োগ পাওয়ার পর তাঁর অধীনে সোনালী ব্যাংক ২০২৫ সালে উল্লেখযোগ্য ব্যবসায়িক সাফল্য অর্জন করেছিল।
উল্লেখ্য, মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরীর আমলেই সোনালী ব্যাংক তাদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৮ হাজার ১৭ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা অর্জন করে। বছর শেষে ব্যাংকটির আমানত প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা এবং ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। তাঁর পদত্যাগের ফলে দেশের বৃহত্তম এই ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে এখন নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
