ইরান কোনোভাবেই নতি স্বীকার করবে না এবং যেকোনো দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য তেহরান পুরোপুরি প্রস্তুত বলে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (SNSC) সচিব আলি লারিজানি। সোমবার (২ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই দৃঢ় অবস্থানের কথা জানান। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, ইরান কখনো যুদ্ধের সূচনা করে না এবং তাদের বর্তমান পদক্ষেপগুলো কেবলই আত্মরক্ষার তাগিদে নেওয়া।
বার্তায় লারিজানি দাবি করেন, গত ৩০০ বছরের ইতিহাসে ইরান আগে কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেনি। তিনি বলেন, “আমাদের সাহসী সশস্ত্র বাহিনী কখনোই আত্মরক্ষা ছাড়া কোনো সামরিক অভিযান পরিচালনা করেনি। আমরা আমাদের ৬ হাজার বছরের প্রাচীন সভ্যতাকে যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ইরানের দীর্ঘদিনের শান্তিকামী অবস্থানের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বর্তমান পরিস্থিতির দায়ভার শত্রু দেশগুলোর ওপর চাপিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইঙ্গিত করে লারিজানি আরও বলেন, শত্রুরা তাদের ভুল হিসাবনিকাশের জন্য অচিরেই অনুতপ্ত হবে। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ধকল সইতে অভ্যস্ত নয়, কিন্তু ইরান এমন পরিস্থিতির জন্য মানসিক ও সামরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। যেকোনো মূল্যে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে ইরান পিছপা হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তেহরানের নেতৃত্ব সংকটের যে গুঞ্জন উঠেছিল, লারিজানির এই বক্তব্য তা নাকচ করে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির অবর্তমানে লারিজানি এখন ইরানের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করছেন এবং তাঁর এই ‘দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের’ ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বর্তমানে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল জোটের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় পুরো অঞ্চল একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। লারিজানির এই অনড় অবস্থানের পর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল এখন ইরান ও পশ্চিমাদের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে গভীর নজর রাখছে।
