ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে সরাসরি অংশ নেবে না যুক্তরাজ্য। সোমবার (২ মার্চ) ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউস অব কমন্সে দেওয়া এক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার তাঁর সরকারের এই অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, আকাশপথে হামলা চালিয়ে কোনো দেশের ‘শাসন পরিবর্তন’ (Regime Change) করার নীতিতে ব্রিটেন বিশ্বাসী নয়।
স্টারমার তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য একটি ‘আইনসম্মত ভিত্তি’ এবং সুস্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা থাকা জরুরি। ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, লক্ষ্য অর্জনযোগ্য কি না তা বিচার না করে কোনো যুদ্ধে জড়ানো ঠিক নয়। তবে তিনি এও জানান যে, ব্রিটিশ নাগরিকদের সুরক্ষা এবং আত্মরক্ষার খাতিরে কিছু প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যুক্তরাজ্যের এই সিদ্ধান্তে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন যে, যুদ্ধের শুরুতে ইরানের ওপর প্রাথমিক হামলার জন্য ব্রিটেন তাদের বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি, যা তাঁর মতে ‘হতাশাজনক’। তবে স্টারমার স্পষ্ট করেছেন যে, ব্রিটেনের জাতীয় স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
অবশ্য পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় রবিবার (১ মার্চ) রাত থেকে একটি নির্দিষ্ট এবং সীমিত উদ্দেশ্যে ব্রিটিশ বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাজ্য। স্টারমার জানিয়েছেন, শুধুমাত্র ইরান থেকে ছোড়া মিসাইল এবং ড্রোন মাঝপথে ধ্বংস করার মতো ‘প্রতিরক্ষামূলক’ কাজের জন্যই এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ব্রিটেন সরাসরি কোনো আক্রমণাত্মক অভিযানে অংশ নেবে না এবং আলোচনার মাধ্যমেই এই সংকটের সমাধান চায়।
