জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সংস্কারের বিষয়টি ইতোমধ্যে গণভোটের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়েছে। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত রায়কে আদালতের মাধ্যমে অস্বীকারের চেষ্টা করা হলে তার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামে এনসিপি আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে বিএনপি ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পুরস্কার হিসেবে মন্ত্রী বানিয়েছে কি না—এমন প্রশ্ন জনমনে দেখা দিয়েছে। ৫ আগস্টের পর থেকেই দেশি-বিদেশি বিভিন্ন শক্তি ছাত্র-জনতার শক্তিকে দুর্বল করতে ষড়যন্ত্র করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দেশের কোথাও কার্যক্রম শুরু করার চেষ্টা করলে এনসিপির কর্মীরা সেখানে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। এনসিপি ও আওয়ামী লীগ একসঙ্গে রাজনীতি করতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এনসিপির সদস্য সচিব আকতার হোসেন বলেন, বিএনপি যে পরিমাণ ভোট পেয়েছে, ‘হ্যাঁ’ ভোট তার দ্বিগুণ। ক্ষমতায় গিয়ে বিএনপি গণভোটের রায় অস্বীকার করছে এবং জুলাই সনদ নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। আদালতের মাধ্যমে সনদকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। আদালতকে প্রমাণ করতে হবে যে, তারা কোনো দলের নয়—এমন মন্তব্যও করেন আকতার হোসেন।
দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, দেশে আর ফ্যাসিবাদের বিস্তার দেখতে চায় না এনসিপি। ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দল একাই তার মোকাবিলা করবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এনসিপির নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, ইয়াবা সম্রাট বদিকে বিএনপি মুক্তি দিয়েছে। বিএনপি নেতাদের তত্ত্বাবধানে দেশে নানা অপরাধ বেড়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। এসব অপকর্ম করতেই বিএনপি সংস্কারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সংস্কার আদায়ে এনসিপির কর্মীরা কঠোর অবস্থানে থাকবে উল্লেখ করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, প্রয়োজনে আবারও ‘জুলাই’ ঘটবে। আওয়ামী লীগ ভারতে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেছে দাবি করে তিনি বলেন, অপকর্ম অব্যাহত থাকলে বিএনপি নেতাদের কঠিন পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।
