বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে থাকা বিশ্বের অন্যতম সুরক্ষিত স্মার্টফোন হিসেবে সিরিন ল্যাবস ফিনি (Sirin Labs Finney) ফোনটি নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। ২০১৮ সালের মে মাসে বাজারে আসা এই ফোনটি বিশ্বের প্রথম ব্লকচেইন সিকিউরিটি ফোন হিসেবে স্বীকৃত। এটি মূলত সাধারণ স্মার্টফোনের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে।
এই বিশেষ স্মার্টফোনটির মালিকানা এবং উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হলো ইসরায়েলভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সিরিন ল্যাবস (Sirin Labs)। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হলেন মোশে হোগেগ (Moshe Hogeg)। কোম্পানিটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা সম্বলিত গ্যাজেট তৈরির জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। ফোনটির নকশা এবং সফটওয়্যার সিরিন ল্যাবস তৈরি করলেও এর হার্ডওয়্যার নির্মাণের দায়িত্বে ছিল বিখ্যাত ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ফক্সকন (Foxconn), যারা অ্যাপলের আইফোনও তৈরি করে থাকে।
ফোনটির সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো এর নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম ‘সিরিন’ (Sirin OS)। এটি অত্যন্ত সুরক্ষিত একটি ইকোসিস্টেম, যা ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা রক্ষায় সর্বোচ্চ সুরক্ষা দেয়। এতে রয়েছে একটি ইন-বিল্ট সাইবার সিকিউরিটি সেন্টার, যা রিয়েল-টাইমে নেটওয়ার্ক অ্যাটাক, ম্যালওয়্যার এবং ফিশিং হামলা থেকে ফোনটিকে রক্ষা করে। ফলে কোনো অবস্থাতেই হ্যাকারদের পক্ষে ফোনের তথ্য হাতিয়ে নেওয়া সম্ভব হয় না।
স্মার্টফোনটির পেছনে একটি স্লাইডিং ‘সেফ স্ক্রিন’ (Safe Screen) দেওয়া হয়েছে। এটি স্লাইড করলেই ফোনের ভেতরে থাকা কোল্ড স্টোরেজ ক্রিপ্টো ওয়ালেট সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াই নিরাপদভাবে ডিজিটাল লেনদেন বা তথ্যের আদান-প্রদান করা সম্ভব। বহুমুখী নিরাপত্তা স্তর বা মাল্টিলেয়ার সিকিউরিটি সিস্টেম থাকার কারণে এটি রাষ্ট্রপ্রধানদের মতো উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত যোগাযোগের জন্য একটি আস্থার মাধ্যমে পরিণত হয়েছে।
