নেপালে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সাধারণ নির্বাচনের ভোট গণনা চলছে এবং প্রাথমিক ফলাফলে এক অভাবনীয় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তরুণ প্রজন্মের (জেন-জি) নেতৃত্বাধীন গণ-অভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ব্যাপক ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে ‘রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি’ (আরএসপি)। ধারণা করা হচ্ছে, দলটি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নেপালের পরবর্তী সরকার গঠন করতে যাচ্ছে।
আরএসপির এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছেন জনপ্রিয় র্যাপার এবং কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র বালেন্দ্র শাহ, যিনি ‘বালেন শাহ’ নামেই সমধিক পরিচিত। গত বছরের শিক্ষার্থী আন্দোলনে প্রশাসনের অংশ হয়েও তিনি সক্রিয়ভাবে অভ্যুত্থানকে সমর্থন জানিয়েছিলেন, যা তাকে তরুণ প্রজন্মের আইকনে পরিণত করে। নির্বাচনে তিনি ঝাপা-৫ আসনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলির বিরুদ্ধে লড়াই করে বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, নেপালের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলগুলোর দুর্নীতি এবং সুশাসনের অভাবের বিরুদ্ধে এটি একটি ‘শান্তিপূর্ণ ব্যালট বিপ্লব’। নির্বাচনে আরএসপি কাঠমান্ডু উপত্যকার ১৫টি আসনের মধ্যে ১৪টিতেই লিড দিচ্ছে। নেপালের ৩০ মিলিয়ন মানুষের এই দেশে তরুণ ভোটারদের ভোট আরএসপির পাল্লা ভারী করেছে, যারা একটি স্থিতিশীল ও নতুন ধারার নেপাল দেখতে চায়।
বালেন্দ্র শাহর নেতৃত্বাধীন আরএসপি নেপালের রাজনীতিতে জাতীয়তাবাদী ও সংস্কারবাদী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। কাঠমান্ডুর মেয়র থাকাকালীন তিনি তার দপ্তরে ‘অখণ্ড নেপালের’ মানচিত্র টাঙিয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন। হিন্দু-অধ্যুষিত এই দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের আবেগকে ধারণ করার পাশাপাশি তিনি সুশাসন ও প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
প্রাথমিক গণনায় দেখা যাচ্ছে, আরএসপি ইতিমধ্যে ১০০টিরও বেশি আসনে এগিয়ে রয়েছে। যদি এই ধারা বজায় থাকে, তবে ৩ বছরের পুরনো এই দলটিই হবে নেপালের ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী তরুণ নেতৃত্বাধীন সরকার। বর্তমান অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের অধীনে পরিচালিত এই নির্বাচন নেপালের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করতে যাচ্ছে।
