মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন সামরিক স্থাপনা এবং রাডার ব্যবস্থার অবস্থান সম্পর্কে ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে রাশিয়া সহায়তা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে দুইজন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তার বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে। তবে সংবেদনশীল বিষয় হওয়ায় কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই তথ্য দিয়েছেন।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এক সপ্তাহ আগে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে, তাতে মস্কোর পরোক্ষভাবে জড়িত হওয়ার এটিই প্রথম বড় কোনো ইঙ্গিত। যদিও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখনো এমন কোনো প্রমাণ পায়নি যে, রাশিয়া সরাসরি ইরানকে ওই তথ্য ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে। মূলত মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার মুখে পাল্টা আঘাত হানতে তেহরানকে এই তথ্যগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন বিচ্ছিন্ন থাকা ইরানের সঙ্গে রাশিয়ার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হিজবুল্লাহ, হামাস ও হুথিদের মতো প্রক্সি গোষ্ঠীকে সমর্থনের কারণে ইরান মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকলেও মস্কো তাদের অন্যতম প্রধান সহযোগী। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পারস্য উপসাগরে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে রাশিয়ার সরবরাহ করা তথ্য ইরানকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে বলে সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
অবশ্য হোয়াইট হাউস এই গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের খবরকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে চাইছে না। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লিয়াভিট সাংবাদিকদের বলেন, রাশিয়ার এই তথাকথিত সম্পৃক্ততা মার্কিন সামরিক অভিযানে কোনো পার্থক্য তৈরি করছে না। তিনি দাবি করেন, ইরানে চলমান অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র তাদের লক্ষ্যবস্তুগুলোকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিচ্ছে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সিবিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি জানান, কে কার সঙ্গে গোপন যোগাযোগ রাখছে তা মার্কিন কমান্ডারের নখদর্পণে রয়েছে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত তৎপরতা শক্তভাবে মোকাবিলা করা হচ্ছে। রাশিয়ার এই পদক্ষেপকে ওয়াশিংটন তাদের সামরিক পরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
