ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব এবং চলমান সামরিক অভিযান নিয়ে সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (৬ মার্চ) তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইরানকে পশ্চিমা ধাঁচের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তার মতে, ইরানের এমন একজন নেতা প্রয়োজন যিনি বর্তমান পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাবেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন মিত্রদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবেন।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প গত এক সপ্তাহের সামরিক অভিযানের সাফল্য দাবি করে বলেন, “এক সপ্তাহ আগে ইরান যেমন শক্তিশালী অবস্থানে ছিল, এখন আর তেমন নেই; তাদের কার্যকরভাবে দমিয়ে ফেলা হয়েছে।” ইরানের পরবর্তী নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে তিনি ভেনেজুয়েলার উদাহরণ টেনে আনেন। তিনি উল্লেখ করেন, গত জানুয়ারিতে নিকোলাস মাদুরোকে অপসারণের পর ডেলসি রদ্রিগেজ যেভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন, ইরানের নতুন নেতৃত্বকেও সেই পথ অনুসরণ করতে হবে।
ভেনেজুয়েলার বর্তমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিষয়টিও অনেকটা ভেনেজুয়েলার মডেলের মতোই হবে। সেখানে বর্তমানে একজন ‘অসাধারণ’ নেতা আছেন যিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় ভালো কাজ করছেন। ইরানের ক্ষেত্রেও একই ধরণের নেতৃত্ব আশা করছেন তিনি, যারা সংঘাতের পরিবর্তে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে।
আয়াতুল্লাহ খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে কোনো ধর্মীয় নেতা আসার সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্প বলেন, নেতা যদি ধর্মীয় ব্যক্তিত্বও হন, তাতে তার কোনো আপত্তি নেই। তার ভাষ্যমতে, “বিষয়টি নির্ভর করবে নির্দিষ্ট ওই ব্যক্তির ওপর। আমার ধর্মীয় নেতাদের নিয়ে কোনো সমস্যা নেই, যদি তারা অসাধারণ মানুষ হন।” তিনি বিশ্বাস করেন, সঠিক ব্যক্তি ক্ষমতায় এলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি বজায় রাখা সম্ভব।
সবশেষে ট্রাম্প দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এখন নিজেদের অস্তিত্ব ও স্বার্থ রক্ষায় সরাসরি লড়াইয়ে নেমেছে। বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ইরানের নেতৃত্ব পরিবর্তনই এই অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য প্রধান সমাধান বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
