আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব নারীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা। তিনি বলেন, নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত হলেই প্রকৃত অর্থে নারীর ক্ষমতায়ন সম্ভব।
শনিবার (৭ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস নারীর মর্যাদা, অধিকার, নিরাপত্তা ও মানবিক সম্মান প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন।
নারীদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জানাতে বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয়। সমাজ, রাষ্ট্র ও সভ্যতার অগ্রযাত্রায় নারীর অক্লান্ত শ্রম, ত্যাগ ও অবদানের স্বীকৃতি দিতেই এ দিবসের গুরুত্ব।
তিনি বলেন, এবারের নারী দিবসের প্রতিপাদ্য— “আজকের পদক্ষেপ আগামীর ন্যায়বিচার—সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার”। এই প্রতিপাদ্য কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব জীবনে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সাম্প্রতিক সময়ে নারী ও কন্যাশিশুর ওপর সহিংসতা, নির্যাতন ও অনিরাপত্তার ঘটনা গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
নূরুন্নিসা সিদ্দীকা বলেন, নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়ন তখনই সম্ভব যখন ঘরে ও বাইরে তাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে ক্ষমতায়নের কথা বলা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। যদিও বিশ্ব রাজনীতিতে নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টি বারবার উচ্চারিত হয়, কিন্তু বাস্তবে তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সামাজিক পরিবেশের যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইসলাম নারীদের সর্বোচ্চ মর্যাদা ও সম্মান দিয়েছে। আল্লাহ প্রদত্ত অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করে নারীদের এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যমেই একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে দায়িত্বশীলদের সচেতন ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে তিনি সবাইকে এমন একটি সমাজ গড়ে তোলার আহ্বান জানান, যেখানে নারী নিরাপদ, সম্মানিত ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন যাপন করতে পারবে এবং সমাজ ও রাষ্ট্র নির্মাণে তাদের মেধা ও যোগ্যতার পূর্ণ বিকাশ ঘটাতে পারবে।
