রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ প্রচারকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও বামনেত্রী শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি এবং ছাত্রলীগ নেতা আসিফ আহমেদসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরের পর থেকে রাত পর্যন্ত চলা উত্তেজনার জেরে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সরকারি কাজে বাধাদানের অভিযোগে মামলা করা হয়।
মামলার আসামিরা হলেন—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আসিফ আহমেদ, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী আবদুল্লাহ আল মামুন এবং ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেত্রী শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি। এ ছাড়া আরও ২০-৩০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে এই মামলায় আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় শনিবার দুপুর আনুমানিক ৩টার দিকে। শাহবাগ থানাধীন শহীদুল্লাহ হল ক্রসিং এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কতিপয় সদস্য সমবেত হয়ে মাইকে ৭ মার্চের ভাষণ বাজাচ্ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে উপস্থিত হলে পালানোর চেষ্টাকালে স্থানীয়দের সহায়তায় আসিফ আহমেদ সৈকতকে আটক করা হয়। আসিফ ঢাবির পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং শহীদুল্লাহ হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক পদধারী নেতা।
আসিফকে আটকের প্রতিবাদে ওই দিন রাত ৯টা ২০ মিনিটের দিকে জাতীয় জাদুঘরের ১ নং গেটের সামনে আবদুল্লাহ আল মামুন ও শেখ তাসনিম আফরোজ ইমির নেতৃত্বে আরও ১০-১৫ জন সমবেত হন। তারা একটি রিকশায় মাইক বেঁধে পুনরায় ৭ মার্চের ভাষণ বাজাতে শুরু করেন এবং উসকানিমূলক স্লোগান দেন। সে সময় শাহবাগ থানা মসজিদে তারাবিহ নামাজ চলছিল।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা পুলিশের কাজে বাধা প্রদান করেন এবং থানা হেফাজত থেকে আসিফ আহমেদকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালান। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু প্রতিনিধি এ বি যুবায়ের এবং মোহাম্মদ মোসাদ্দেকের নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী মামুন ও ইমিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। পরে রমনা জোনের ডিসি মো. মাসুদ আলম জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা ছাত্রলীগের সক্রিয় নেতা এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
