ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদিকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেন। খুনের পর তারা আইনি বিচার এড়াতে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে আত্মগোপন করেছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, গত ডিসেম্বরে ঢাকায় হাদিকে গুলি করার পর এই দুই আসামি মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। এরপর তারা ভারতের বিভিন্ন রাজ্য ঘুরে সবশেষে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নেন। সেখান থেকে পুনরায় সুযোগ বুঝে বাংলাদেশে ঢোকার পরিকল্পনা করার সময়ই তারা এসটিএফের জালে ধরা পড়েন।
এই অনুপ্রবেশ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। রোববার (৮ মার্চ) তাদের পশ্চিমবঙ্গের সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের ১৪ দিনের পুলিশি রিমান্ডের আদেশ দেন। বর্তমানে রিমান্ডে নিয়ে তাদের এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল পরিকল্পনাকারী বা নির্দেশদাতাদের সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
এদিকে, প্রধান আসামিরা ভিনদেশে ধরা পড়ায় বাংলাদেশে ওসমান হাদি হত্যার বিচার প্রক্রিয়া নতুন গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, বাংলাদেশ সরকার দ্রুত আইনি ও কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে এই খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত নির্দেশদাতাসহ সকলের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করবে।
