রংপুরের বদরগঞ্জে যমুনেশ্বরী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করায় নারীসহ ছয়জনকে লাঠিপেটা করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের নাগরহাট এলাকায় এই ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘ দিন ধরে যমুনেশ্বরী নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন করে আসছে। এই চক্রটি প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার বালু বিক্রি করছে, যার ফলে নদী তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন ও পরিবেশের বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে। নাগরহাট এলাকায় এই অবৈধ বালু ব্যবসার মূল হোতা হিসেবে ফোকলা জামান, অহিদুল হক ও লোকমান মিয়াসহ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে।
বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে গত ১১ ডিসেম্বর ও ২ মার্চ কয়েক গ্রামের বাসিন্দারা মানববন্ধন এবং উপজেলা প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। ভুক্তভোগী সজীব মিয়ার (৪৫) দাবি, মানববন্ধনে বক্তব্য দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে তাকে নির্জন এলাকায় ডেকে নিয়ে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে তার স্ত্রী, মা ও বোন ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালানো হয়।
সজীবের মা সোনাভান জানান, তাদের বন্দোবস্ত নেওয়া জমি থেকে বালু উত্তোলনের বাধা দিতে গেলে বিএনপি নেতা অহিদুল হক ও তার লোকজন এই হামলা চালায়। এ সময় প্রতিবেশী আব্দুস সাত্তার ও আখতারুল হক এগিয়ে এলে তাদেরও বেধড়ক পিটিয়ে আহত করা হয়। তবে অভিযুক্তরা এই দাবি অস্বীকার করেছেন এবং পাল্টা দাবি করেছেন যে, তাদের পাহারাদারকে সজীব মিয়া ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেছেন।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগীরা অভিযুক্ত ছয়জনের নাম উল্লেখ করে বদরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক পরিতোষ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
