বাংলাদেশের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কায়সার রশিদের ভারত সফর এবং সে দেশের গোয়েন্দা ও সামরিক শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকের খবর নিয়ে ব্যাপক গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে। হিন্দুস্তান টাইমস, এনডিটিভি এবং দ্য প্রিন্টসহ বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, গত ১ থেকে ৩ মার্চের মধ্যে এই সফর অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সফরকালে ডিজিএফআই প্রধান ভারতের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা ‘রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং’ (র)-এর চিফ পরাগ জৈন এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স ডাইরেক্টর জেনারেল (ডিজিএমআই) আর. এস. রামানের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। এমনকি তাদের মধ্যে নৈশভোজের আয়োজনের খবরও চাউর হয়েছে।
দাবি করা হচ্ছে, এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপোড়েন কাটিয়ে ওঠার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দুই দেশই পারস্পরিক সম্মান এবং সমঝোতার ভিত্তিতে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো উল্লেখ করেছে। যদিও ডিজিএফআই প্রধানের এই সফরটি ব্যক্তিগত বা চিকিৎসার প্রয়োজনে ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছিল।
এখন পর্যন্ত ঢাকা বা দিল্লি—কোনো পক্ষ থেকেই এই বৈঠকের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ বা দাপ্তরিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে অফিশিয়াল কনফার্মেশন না থাকলেও খবরটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনসাধারণের মাঝে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে জনমনে ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় ধরনের প্রতিক্রিয়াই দেখা যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের শীর্ষ গোয়েন্দা ও সামরিক কর্মকর্তাদের এমন সম্ভাব্য বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা এবং দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এ ধরনের আলোচনা নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিতে পারে। তবে সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করতে এবং জনমনে বিভ্রান্তি দূর করতে দ্রুত উভয় দেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য আসা প্রয়োজন।
