চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতার বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার স্ত্রীকে শ্লীলতাহানি, ধর্ষণের চেষ্টা এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ) সকালে উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের দোয়াপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ভুক্তভোগী গৃহবধূ জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত রাসেল হোসেন (২২) ওই গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে এবং তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার সময় রায়পুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কবির হোসেনের স্ত্রী বাড়ির পাশের জমিতে হাঁস চরাচ্ছিলেন। এ সময় রাসেল পেছন থেকে তাকে জাপটে ধরে পাশের একটি ড্রাগন বাগানে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালান।
ভুক্তভোগী ওই নারী বাধা দিলে এবং ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে রাসেল তার কাছে থাকা ধারালো দা দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করেন। এতে ওই গৃহবধূর দুই হাত মারাত্মকভাবে জখম হয়। পরে ভুক্তভোগীর মেয়ে ও শ্যালিকা চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে এলে হামলাকারী রাসেল পালিয়ে যান। স্বজনরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ভুক্তভোগীর স্বামী ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা কবির হোসেন দাবি করেছেন, এটি একটি পরিকল্পিত হামলা। কয়েক দিন আগে তার নিজের ওপর হামলা হয়েছিল এবং এবার তার স্ত্রীকে টার্গেট করা হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকে তিনি সপরিবারে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং প্রশাসনের কাছে দ্রুত দোষীকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গৃহবধূর হাতে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে এবং তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। জীবননগর থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তারা অবগত হয়েছেন এবং অভিযুক্ত রাসেলকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। এলাকায় এ নিয়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
