পাবনা-১ আসনে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার জেরে সাঁথিয়া উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মনসুর আলমকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচনী প্রচারণায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করায় প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের সমর্থকরা এই হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মনসুর আলম সিএন্ডবি বাজারে তার নিজের ওষুধের দোকানে অবস্থান করছিলেন। এ সময় পাবনা-১ আসনের বিএনপির পরাজিত প্রার্থী শামসুর রহমান ওরফে শামসুর অনুসারী হিসেবে পরিচিত ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি সশস্ত্র দল হঠাৎ তার দোকানে ঢুকে পড়ে। তারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মনসুর আলমের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর জখম করে।
হামলাকারীরা কেবল শারীরিক নির্যাতন করেই ক্ষান্ত হয়নি, তারা মনসুর আলমের ওষুধের দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় দোকানের ক্যাশ বাক্স ও মূল্যবান মালামাল নিয়ে যায় হামলাকারীরা। ঘটনার আকস্মিকতায় বাজারের অন্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
হামলার পর মনসুর আলমকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর আঘাত থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এই ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনায় সাঁথিয়া এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। মনসুর আলমের পরিবার ও স্থানীয় শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের পক্ষ থেকে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং এই বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
