রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ আগের চেয়ে বেড়েছে। ক্রেতারা এক দোকানে তেল না পেলেও অন্য দোকান ঘুরে প্রয়োজনীয় তেল সংগ্রহ করতে পারছেন। কারওয়ান বাজার, মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেট ও চন্দ্রিমা কাঁচাবাজারে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজারের বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, গত সোমবার দিবাগত রাত থেকে বিপণনকারী কোম্পানিগুলো তেলের সরবরাহ বৃদ্ধি করেছে। মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা কাঁচাবাজারে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে প্রতি লিটার ২০০ টাকায়। পাশাপাশি ২ লিটার বোতলের দাম ৪০০ টাকা, যেখানে পুষ্টি, তীর ও গৃহিণী ব্র্যান্ডের বোতলজাত তেল পাওয়া যাচ্ছে।
তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এখনও কম, অভিযোগ করছেন মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেটের বিক্রেতা নূরে আলম। তিনি জানান, রোজার শুরু থেকে চাহিদার তুলনায় তেলের সরবরাহ কম ছিল। “দৈনিক ১০০ কার্টনের চাহিদার অর্ধেকের বেশি পাওয়া যায়নি। সোমবার রাত থেকে সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে,” তিনি জানান।
একই বাজারের বিক্রমপুর জেনারেল স্টোরের মোতাহার হোসেন বলেন, “অনেক ক্রেতা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল কিনছেন। তাই সংকট কিছুটা বেড়েছে।” ১ লিটার বোতলের ক্রয়মূল্য ১৯২ টাকা, বিক্রি ১৯৫ টাকা। আধা লিটার বোতলের ক্রয়মূল্য ৯৮ টাকা, বিক্রি ১০০ টাকা।
কারওয়ান বাজারের আলী স্টোরের বিক্রেতা রিয়াদ হোসেন জানান, ১ ও ২ লিটারের বোতল মিললেও ৫ লিটারের বোতল কম আসছে। দিনের চাহিদা ৪ কার্টন হলেও সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২ কার্টন। খোলা তেলের ড্রামের দাম বেড়েছে ৪০০ টাকা, ফলে লিটারপ্রতি দাম ১৯৮–২০০ টাকা। খোলা পাম অয়েল বিক্রি হচ্ছে ১৬৫–১৭০ টাকায়।
বাজারে সংকটের মূল কারণ হিসেবে বিক্রেতারা দুটি বিষয় উল্লেখ করছেন। এক, কোম্পানিগুলো তুলনামূলক কম পরিমাণে তেল সরবরাহ করছে। দুই, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে আতঙ্কে ক্রেতারা অতিরিক্ত তেল কিনছেন।
বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স গত রোববার বাণিজ্য সচিবকে চিঠি দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোম্পানিগুলো নিজেদের পরিবহনের অর্ধেক ব্যবহার করতে পারছে না, ভাড়া গাড়িও মিলছে না। এই অবস্থা চললে বাজারে ভোজ্যতেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হবে। তাই জ্বালানি তেলের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা জরুরি।
