সদ্য সমাপ্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেমিফাইনালের আগেই বিদায় নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল পাকিস্তান ক্রিকেট দল। সেই ক্ষত নিয়েই বাংলাদেশ সফরে এসে প্রথম ওয়ানডেতেই লজ্জার এক নজির গড়ল শাহিন শাহ আফ্রিদির দল। মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টাইগারদের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে দাঁড়াতেই পারেনি সফরকারীরা।
বুধবার সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে টস হেরে শুরুতে ব্যাট করতে নামে পাকিস্তান। শুরুটা মন্দ ছিল না, বিনা উইকেটে ৪১ রান তুলে ফেলেছিল তারা। কিন্তু এরপরই শুরু হয় বিপর্যয়। পরবর্তী মাত্র ৪১ রান যোগ করতেই তারা হারিয়ে ফেলে ৯টি উইকেট। ২৩.৫ ওভারে স্কোরবোর্ড যখন ৮২ রান, তখনই পাকিস্তানের ৯ম উইকেটের পতন ঘটে।
এই ম্যাচে পাকিস্তান ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম এক বাজে রেকর্ডের সম্মুখীন হয়। ১৯ ওভারের মধ্যে মাত্র ৭০ রানেই তারা ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে। ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের বিপক্ষে এর আগে কখনও এত কম রানে ৬ উইকেট হারায়নি পাকিস্তান। শাহিন শাহ আফ্রিদির নেতৃত্বাধীন দলটি মিরপুরের মাঠে আজ এই অনাকাঙ্ক্ষিত নজির স্থাপন করল।
বাংলাদেশের তরুণ পেস সেনসেশন নাহিদ রানার গতির ঝড়ে খড়কুটোর মতো উড়ে গেছে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ। নাহিদ রানা এদিন আগুনের গোলক ছুটিয়েছেন মিরপুরের উইকেটে। তার বিধ্বংসী বোলিংয়ের মুখে পড়ে পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত ৩০.৪ ওভারে মাত্র ১১৪ রানেই অলআউট হয়ে যায়।
পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে কেবল মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান ফাহিম আশরাফ কিছুটা প্রতিরোধ গড়তে পেরেছিলেন। তিনি ৪৭ বলে ৬টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৭ রান করেন। বাকিদের কেউই উইকেটে থিতু হতে পারেননি।
বোলিংয়ে বাংলাদেশের নায়ক ছিলেন নাহিদ রানা। তিনি ৭ ওভার বল করে মাত্র ২৫ রান খরচায় শিকার করেন ৫টি উইকেট, যা তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ফিগার। এছাড়া অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ ১০ ওভারে ২৯ রান দিয়ে নেন ৩টি উইকেট। ছোট এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ এখন জয়ের পথে।
