সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্দর ছেড়ে আসার কিছুক্ষণ পরই বুধবার (১১ মার্চ) কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর কাছে থাই পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজে ভয়াবহ হামলা চালানো হয়েছে। রয়্যাল থাই নৌবাহিনী এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এ ঘটনায় ২০ জন নাবিককে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনো তিনজনের খোঁজ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
প্রতিবেদন অনুসারে, থাই কোম্পানি প্রিশিয়াস শিপিং পিসিএল-এর মালিকানাধীন ‘ময়ূরী নারি’ নামক বাল্ক ক্যারিয়ারটি আরব আমিরাতের খলিফা বন্দর থেকে ভারতের কান্দলা বন্দরের দিকে যাচ্ছিল। ওমানের প্রায় ১১ নটিক্যাল মাইল উত্তরে জাহাজটি অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। থাই নৌবাহিনী জানিয়েছে, হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ ও ধরন বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, শুধু ‘ময়ূরী নারি’ নয়, একই দিনে হরমুজ প্রণালীতে মোট তিনটি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে জাপানের পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ ‘ওয়ান ম্যাজেস্টি’ রাস আল খাইমাহ-এর কাছে সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী ‘স্টার গুইনেথ’ নামের আরও একটি কার্গো জাহাজ দুবাইয়ের উত্তর-পশ্চিমে আক্রমণের শিকার হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, ‘ময়ূরী নারি’ জাহাজে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং বর্তমানে এটি পরিবেশগত কোনো ঝুঁকির মুখে নেই। তবে অজ্ঞাত এই প্রজেক্টাইল হামলার ঘটনায় পুরো অঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও অন্য জাহাজগুলোকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে কাজ করছে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান এবং মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে। বর্তমান সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনির কঠোর অবস্থানের মধ্যে এই নৌপথে হামলার সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৪টিতে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই তেল ও গ্যাস সরবরাহ পথটি এখন চরম নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতার সংকেত দিচ্ছে।
