মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সাম্প্রতিক কিছু রাজনৈতিক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিশেষ করে ‘গণভোটের কোনো আইনি ভিত্তি নেই’—তাঁর এমন বক্তব্যের পর নেটিজেনরা তাঁর অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। এক ‘সংগৃহীত’ পোস্টে তাঁকে ‘বিএনপি ডুবানোর প্রজেক্ট’ হিসেবে অভিহিত করে তাঁর রাজনৈতিক সততা নিয়ে কড়া সমালোচনা করা হয়েছে।
সমালোচকদের দাবি, যখন বিএনপিসহ সারা দেশ গণভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, তখন মেজর হাফিজের এই বিপরীত সুর রহস্যজনক। ওয়ান-ইলেভেনের সময় খালেদা জিয়াকে ‘মাইনাস’ করার চেষ্টা এবং বিএনপির সংস্কারপন্থী অংশের মহাসচিব হওয়া নিয়ে তাঁর দিকে আঙুল তোলা হয়েছে। প্রশ্ন তোলা হয়েছে, সে সময় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপগুলোর কি কোনো ‘আইনি ভিত্তি’ ছিল?
পোস্টে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, হাফিজ উদ্দিন আহমদ শুধু এখন নয়, বরং খোদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় থেকেই বিশ্বাসঘাতকতার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। দাবি করা হয়েছে, জিয়াউর রহমান তাঁকে তাঁর পিএস পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে শর্তসাপেক্ষে অবসর নিতে বাধ্য করেছিলেন। এমনকি কোর্ট মার্শালের ভয়ে পালিয়ে গিয়ে তিনি জীবন বাঁচিয়েছিলেন বলেও গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। জিয়াউর রহমান বেঁচে থাকাকালীন তিনি বিএনপিতে স্থান পাননি বলেও পোস্টে উল্লেখ করা হয়।
মেজর হাফিজের রাজনৈতিক অতীত টেনে বলা হয়েছে, তিনি মূলত স্বৈরশাসক এরশাদের এমপি হিসেবে রাজনীতিতে আবির্ভূত হয়েছিলেন এবং ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানে তাঁরও পতন হয়েছিল। চব্বিশের নির্বাচনের আগেও শেখ হাসিনার সঙ্গে ষড়যন্ত্রের আভাস পাওয়ায় বিএনপি তাঁকে শোকজ করেছিল, যার প্রেক্ষিতে তিনি অবসরে যেতে চেয়েছিলেন। বর্তমান প্রজন্মের দাবি, নব্বইয়ের পতিত স্বৈরাচারের কোনো এমপির মুখে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বিরোধী কোনো কথা তারা শুনতে চায় না।
পোস্টটির শেষে তাঁকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, তারেক রহমান তাঁকে স্থায়ী কমিটির সদস্য করে সম্মান দিলেও তিনি কেন ভোটের অধিকার বা গণভোটের বিপক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন? বিএনপি ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিরোধী ষড়যন্ত্র বন্ধ না করলে তাঁকে পুনরায় অবসরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মেজর হাফিজের এই অবস্থান বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন করে বিভেদ তৈরি করতে পারে।
