তুরস্কের শীর্ষ ড্রোন প্রস্তুতকারক কোম্পানি বাইকার প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের সর্বশেষ উদ্ভাবন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত স্বয়ংক্রিয় আত্মঘাতী বা কামিকাজে ড্রোন ‘কে-২’ (K-2) উন্মোচন করেছে। ২০০০ কিলোমিটার পাল্লার এই ড্রোনটি যুদ্ধের ময়দানে নির্ভুল হামলার ক্ষেত্রে এক নতুন বিপ্লব আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।
শনিবার (১২ মার্চ) প্রকাশিত একটি প্রমোশনাল ভিডিওতে এই নতুন ড্রোনের সক্ষমতা প্রদর্শন করা হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, দিমিত্রি শোস্তাকোভিচের ধ্রুপদী সুরের আবহে ড্রোনটি দলবদ্ধভাবে (Swarm technology) আকাশে উড়ছে এবং বিভিন্ন জটিল মহড়া সম্পন্ন করছে। বাইকার জানিয়েছে, ড্রোনটি নেভিগেশন থেকে শুরু করে লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণ—প্রতিটি পদক্ষেপে উন্নত এআই ভিশন প্রযুক্তি ব্যবহার করবে।
প্রযুক্তিগত দিক থেকে কে-২ ড্রোনটি অত্যন্ত শক্তিশালী। ৮০০ কেজি ওজনের এই ড্রোনটি প্রায় ২০০ কেজি ওজনের বড় ওয়ারহেড (বিস্ফোরক) বহন করতে সক্ষম। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এটি উড্ডয়নের জন্য কোনো অত্যাধুনিক বা লম্বা রানওয়ের প্রয়োজন হয় না; বরং ছোট বা এবড়োখেবড়ো রানওয়ে থেকেও অনায়াসেই আকাশে উড়তে পারে।
ইতিমধ্যেই বাইরাকতার টিবি-২ এবং আকিঞ্জি ড্রোনের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিয়েছে তুরস্ক। নতুন এই কে-২ মডেলটি তুরস্কের সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানি এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে দেবে বলে সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। বিশেষ করে ২০০০ কিলোমিটার রেঞ্জের এই ড্রোনটি আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে তুরস্কের প্রভাব আরও বাড়াবে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও উত্তেজনার মাঝে তুরস্কের এই দূরপাল্লার কামিকাজে ড্রোনের উন্মোচনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। এটি ভবিষ্যতে যুদ্ধের ধরণ এবং আকাশপথের নিরাপত্তাকে আমূল বদলে দিতে পারে।
