যুক্তরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালীর সংকটে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিটি দাবি তারা অন্ধভাবে অনুসরণ করবে না। ব্রিটিশ মন্ত্রী প্যাট ম্যাকফ্যাডেন ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সি বা শাসনকালকে “ভেরি ট্রানজেকশনাল” (পুরোপরি লেনদেন বা স্বার্থকেন্দ্রিক) বলে অভিহিত করেছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মন্ত্রী প্যাট ম্যাকফ্যাডেন এক বিবৃতিতে বলেন, ট্রাম্প একজন অত্যন্ত স্বার্থকেন্দ্রিক রাষ্ট্রপতি। এর অর্থ এই নয় যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখনই যেখানে কোনো সামরিক হস্তক্ষেপ বা পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবে, যুক্তরাজ্যকেও সর্বদা সেটি সমর্থন করতে হবে।
এই বক্তব্যের মাধ্যমে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের “স্পেশাল রিলেশনশিপ” বা বিশেষ সম্পর্কের মাঝে কিছুটা দূরত্বের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের কঠোর সামরিক অবস্থানের সাথে ব্রিটেন সরাসরি একাত্ম হতে চাচ্ছে না বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
মন্ত্রী আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ব্রিটিশ সরকার তার জাতীয় স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির বিচার-বিশ্লেষণ করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। ট্রাম্পের প্রতিটি দাবি মানার বদলে নিজস্ব স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখার পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে লন্ডন।
ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের পরিকল্পনা এবং হরমুজ প্রণালীতে তেলের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের এই অবস্থান ওয়াশিংটনের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের সব সিদ্ধান্তে মিত্র দেশগুলো হয়তো সবসময় পাশে থাকবে না।
