পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মসজিদে ইফতার বিতরণকালে এক শিশুকে চড় মারার প্রতিবাদ করায় যুবদল নেতার নেতৃত্বে এক বসতবাড়িতে বর্বরোচিত হামলা, ভাঙচুর ও লুটের অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (১৫ মার্চ) উপজেলার ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের মিরপুর গ্রামে এই হামলায় নারীসহ অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত ৮০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ বর্তমানে হাসপাতালে মৃত্যুশয্যায় রয়েছেন। এ ঘটনায় সোমবার (১৬ মার্চ) মহিপুর থানায় মামলা দায়ের করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
ঘটনার সূত্রপাত হয় স্থানীয় মিরপুর বায়তুল জান্নাত জামে মসজিদে ইফতার বিতরণকে কেন্দ্র করে। ১৩ বছর বয়সী শিশু রুমানকে তুচ্ছ কারণে চড় মারেন একই গ্রামের ওয়ারেছ পহলান। এর প্রতিবাদ করায় শিশুটির দাদা রুহুল আমিন ও বৃদ্ধ প্রপিতামহ হায়দার আলী ফকিরের ওপর ক্ষিপ্ত হয় ওয়ারেছ ও তার ছেলেরা। মসজিদ কমিটি বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করলেও অভিযুক্তরা তা অমান্য করে এবং বৃদ্ধ হায়দার আলীকে ইফতার না করেই মসজিদ থেকে বের করে দেয়।
অভিযোগ উঠেছে, এর কিছুক্ষণ পরই ডালবুগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র দল রুহুল আমিনের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বৃদ্ধ হায়দার আলীকে কুপিয়ে জখম করে এবং রুহুল আমিনকে এলোপাথাড়ি পিটিয়ে আহত করে। বাধা দিতে গেলে বাড়ির নারীদের মারধর ও শ্লীলতাহানি করা হয় বলে ভুক্তভোগীরা জানান। এমনকি মসজিদ কমিটির সভাপতি আবুবকর সিদ্দিক মীর তাদের বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে জখম করা হয়।
হামলার শিকার পরিবারটি দাবি করেছে, হামলাকারীরা ঘরের আসবাবপত্র ও দরজা-জানালা ভাঙচুর করে ট্রাংক থেকে নগদ ৪০ হাজার টাকা এবং স্বর্ণালঙ্কার লুটে নিয়েছে। আহতদের মধ্যে ৮০ বছর বয়সী হায়দার আলী ফকিরের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এদিকে, অভিযুক্ত যুবদল নেতা জাকির হোসেন তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে একে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন। তবে মহিপুর থানা যুবদলের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান মোল্লা জানিয়েছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাব্বত খান জানান, পুলিশ গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
