যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর দেশজুড়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিলেও পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে দ্রুত সামনে এসেছেন প্রভাবশালী নেতা আলি লারিজানি। তিনি একটি অস্থায়ী নেতৃত্ব পরিষদ গঠনের ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা ও বিভাজন রোধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।
লারিজানি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো ভিন্নমতাবলম্বী বা ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী’ যদি বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে খামেনির প্রতি অনুগত এই নেতা বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে সমন্বয় সাধনে দক্ষ হিসেবে পরিচিত।
আন্তর্জাতিক মহলে লারিজানি একজন ঝানু কূটনীতিক ও বাস্তববাদী নেতা হিসেবে স্বীকৃত। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনার তদারকি করার পাশাপাশি রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ইরানের কৌশলগত সম্পর্ক উন্নয়নে প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে ২০২১ সালে চীনের সঙ্গে ২৫ বছর মেয়াদি সহযোগিতা চুক্তি সই এবং পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন খামেনির প্রধান আস্থাভাজন।
৬০ বছর বয়সী লারিজানি প্রায় ২০ বছর আগে ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পর্ষদের (এসএনএসসি) প্রধান ছিলেন এবং গত বছর ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের পর আবারও এই পর্ষদের নেতৃত্বে ফিরে আসেন। ২০০৫ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত তিনি ইরানের প্রধান পারমাণবিক আলোচক ছিলেন। সে সময় পশ্চিমাদের দেওয়া প্রস্তাবকে ‘চকলেটের বিনিময়ে মুক্তা চাওয়া’ বলে প্রত্যাখ্যান করে তিনি জাতীয় বীর হিসেবে পরিচিতি পান।
রাজনৈতিক জীবনে লারিজানি ২০০৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত টানা ১২ বছর ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর মেয়াদেই ২০১৫ সালে বিশ্বশক্তির সঙ্গে ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি সই হয়েছিল। তিনি সবসময় বিশ্বাস করেন যে, ইরানের পারমাণবিক প্রযুক্তি কেউ কেড়ে নিতে পারবে না, কারণ এটি এখন ইরানের নিজস্ব উদ্ভাবন।
ব্যক্তিগত জীবনে লারিজানি ১৯৫৮ সালে ইরাকের নাজাফে এক বিখ্যাত আলেম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এবং দর্শনে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর সাবেক এই সদস্য ২০০৫, ২০২১ ও ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ার চেষ্টা করলেও গার্ডিয়ান কাউন্সিল কর্তৃক অযোগ্য ঘোষিত হয়েছিলেন। তাঁর পরিবারের সদস্যরাও ইরানের বিচার বিভাগ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদে আসীন।
