ফেসবুকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) ব্যবহার করে তৈরি করা ‘ডিপফেক’ ভিডিওর মাধ্যমে বড় ধরনের প্রতারণা চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর মেয়ে জাইমা রহমানের কণ্ঠ ও ছবি নকল করে ফ্যামিলি কার্ড ও নগদ টাকা দেওয়ার মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে এই চক্র।
সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া এসব ভিডিওতে দেখা যায়, তারেক রহমান সেনা সদস্যদের হাতে টাকা তুলে দিচ্ছেন এবং দেশবাসীকে দ্রুত ফলো ও শেয়ার করার বিনিময়ে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। একইভাবে জাইমা রহমানের একটি ডিপফেক ভিডিওতে তাকে ২০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মানুষের বিকাশ বা নগদ নম্বর সংগ্রহ করতে দেখা গেছে।
এক অনুসন্ধানে গত ১৯ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এমন ৫২টি ডিপফেক ভিডিও শনাক্ত করা হয়েছে। এসব ভিডিওর মূল লক্ষ্য হলো সাধারণ মানুষের ডিজিটাল সাক্ষরতার অভাবকে পুঁজি করে পেজের ফলোয়ার বাড়ানো এবং ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর ও ঠিকানার মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা।
তদন্তে দেখা গেছে, অন্তত ৩১টি ফেসবুক পেজ ও গ্রুপ এই প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত। ‘জনতার ইনকিলাব’ নামের একটি পেজের অ্যাডমিন স্বীকার করেছেন যে, দ্রুত ফলোয়ার বাড়িয়ে পেজ বিক্রির উদ্দেশ্যে তারা এআই জেনারেটেড ভিডিও ব্যবহার করেন। মাত্র সাত দিনে জাইমা রহমানের নামে খোলা দুটি ভুয়া পেজে প্রায় ৯০ হাজার অনুসারী যুক্ত হওয়ার মতো উদ্বেগজনক চিত্রও পাওয়া গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারিভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রোগ্রাম পাইলট ভিত্তিতে চালু হলেও একটি চক্র এটি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়াচ্ছে। এসব ভিডিওর কমেন্ট সেকশনে হাজার হাজার মানুষ নিজেদের বিকাশ নম্বর ও ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করছেন, যা পরিচয় চুরি (Identity Theft) বা আর্থিক জালিয়াতির মতো বড় ঝুঁকির সৃষ্টি করছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মো. সাঈদ আল জামান সতর্ক করে বলেছেন, ব্যবহারকারীরা স্বেচ্ছায় তথ্য শেয়ার করে নিজেদের আর্থিক সুরক্ষা ঝুঁকিতে ফেলছেন। ইন্টারপোলও সতর্ক করেছে যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনসমক্ষে শেয়ার করা এসব তথ্য ব্যবহার করে সাইবার অপরাধীরা ‘সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং’ আক্রমণের মাধ্যমে মানুষের ক্ষতি করতে পারে।
