ঢাকার ব্যস্ততম জনপদগুলোর একটি ঢাকা-৫ আসনে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছিল বেহাল সড়কব্যবস্থা। খানাখন্দে ভরা সেই রাস্তা চলাচলের জন্য যেমন ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, তেমনি প্রতিদিনের যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য হয়ে উঠেছিল দুর্ভোগের আরেক নাম। অবশেষে সেই সমস্যার সমাধানে সরাসরি উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় এসেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য কামাল হোসেন।
সম্প্রতি তিনি তার নির্বাচনী এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ৬৫ নং ওয়ার্ড বাদশা মিয়া রোড মেরামতকাজ নিজে তদারকি করে দ্রুত সম্পন্ন করেন। এতে করে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন এলাকাবাসী। স্থানীয়দের ভাষ্য, বহুদিন ধরে বিভিন্ন জনপ্রতিনিধির কাছে বিষয়টি তুলে ধরা হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। সেখানে বর্তমান এমপি নিজে উপস্থিত থেকে কাজের অগ্রগতি তদারকি করায় মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “নির্বাচনের আগে অনেকেই প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু পরে তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায় না। এবার অন্তত একজন এমপিকে সরাসরি মাঠে নেমে কাজ করতে দেখলাম।” আরেকজন বলেন, “রাস্তার কারণে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হতো। এখন অন্তত কিছুটা স্বস্তি মিলেছে।”
গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এটিকে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন, যেখানে একজন জনপ্রতিনিধি নিজ দায়িত্বে জনগণের সমস্যার সমাধানে এগিয়ে এসেছেন।
উল্লেখ্য, এর আগেও এমপি কামাল হোসেন রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত পরিবহনকেন্দ্র সায়দাবাদ বাস টার্মিনালের যানজট ও টিকিট সিন্ডিকেট নিয়ে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে দূরপাল্লার বাসগুলোর অনিয়ম, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং বিশৃঙ্খল যানজটের কারণে ভোগান্তিতে পড়া যাত্রীদের স্বস্তি দিতে তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা ও নজরদারি জোরদার করেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পর জনপ্রতিনিধিদের মাঠে সক্রিয় উপস্থিতি জনগণের আস্থা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ঢাকা-৫ আসনে সাম্প্রতিক এই উদ্যোগ সেই দৃষ্টান্তকেই আরও স্পষ্ট করেছে।
সব মিলিয়ে, বেহাল রাস্তা মেরামতের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কষ্ট লাঘব করে এমপি কামাল হোসেন এখন আলোচনার কেন্দ্রে যা ভবিষ্যতে অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের জন্যও একটি ইতিবাচক উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।
