ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ যখন তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে, তখন মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর পক্ষ থেকে আসা শান্তি আলোচনার প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা প্রশমনে এবং যুদ্ধ থামিয়ে আলোচনার টেবিলে ফেরার জন্য বেশ কিছু মধ্যস্থতাকারী দেশ ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠিয়েছিল। তবে ইরানের নীতি-নির্ধারণী পর্যায় থেকে এই প্রস্তাবের ইতিবাচক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এই শান্তি প্রস্তাবটি নাকচ করে দিয়েছেন। পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, “এখন শান্তির সময় নয়।” তাঁর এই কঠোর বার্তা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরান এই মুহূর্তে কোনো ধরনের আপস বা যুদ্ধবিরতির পথে হাঁটতে রাজি নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের পর ইরান নিজেদের সামরিক শক্তি ও আঞ্চলিক প্রভাব বজায় রাখতে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ার নীতি গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরানজুড়ে যে জাতীয়তাবাদী ও প্রতিশোধমূলক আবেগ তৈরি হয়েছে, মোজতবা খামেনির এই বক্তব্য তারই প্রতিফলন।
রয়টার্স জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো মূলত ওমান ও কাতার হতে পারে, যারা অতীতেও তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের এই অনমনীয় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘমেয়াদী এবং অনিশ্চিত যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
