বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের মাধ্যমে চীন সরকারের অনুদানকৃত খাদ্যসামগ্রী বিতরণকে কেন্দ্র করে মূলধারার কিছু সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে ‘হলুদ সাংবাদিকতা’ ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনা নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন জামায়াতে ইসলামী ও চীন সরকারের যৌথ উদ্যোগে দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানের ব্যানার এবং খাবারের প্যাকেটে স্পষ্টভাবে চীন সরকারের অনুদানের কথা উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও, ক্ষমতাসীন দল ও বামপন্থী ঘরানার নেটিজেনরা অভিযোগ তোলেন যে, জামায়াত চীনের খাবারকে নিজেদের নামে চালিয়ে দিচ্ছে। অথচ আয়োজক হিসেবে জামায়াত এবং দাতা হিসেবে চীনের নাম প্রতিটি প্রচারণাতেই বিদ্যমান ছিল।
এই প্রোপাগান্ডা যখন ভিন্নমাত্রা পায়, তখন অনেকে চীন সরকারের সমালোচনা শুরু করেন যে তারা কেন সরকারকে বাদ দিয়ে একটি বিরোধী দলের সঙ্গে এই ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই পরিস্থিতিতে চীনা দূতাবাস তাদের ফেসবুক পেজে একটি ব্যাখ্যামূলক পোস্ট দেয়। সেখানে তারা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে চীনের দীর্ঘস্থায়ী ও শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে পুনর্ব্যক্ত করে।
কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় কিছু গণমাধ্যম চীনা দূতাবাসের এই ব্যাখ্যাকে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে এবং ‘মিথ্যা ফ্রেমিং’ করে উপস্থাপন করেছে। প্রতিবেদনগুলোতে দাবি করা হয় যে, চীনের দেওয়া খাবার জামায়াতের নামে প্রচার করায় নাকি চীন সরকার প্রতিবাদ জানিয়েছে। এমনকি ‘প্রথম আলো’র মতো প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধেও এই তথ্যের অপলাপ করার অভিযোগ তুলেছেন সচেতন নাগরিকরা।
বিশ্লেষকদের মতে, দাতা দেশ হিসেবে চীন যেকোনো সামাজিক বা রাজনৈতিক সংগঠনের মাধ্যমে মানবিক সহায়তা প্রদান করতে পারে, যা একটি সাধারণ বৈশ্বিক চর্চা। কিন্তু দূতাবাসের দেওয়া কূটনৈতিক ব্যাখ্যাকে ‘প্রতিবাদ’ হিসেবে চালিয়ে দেওয়াকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সাংবাদিকতার নৈতিকতা পরিপন্থী হিসেবে দেখছেন অনেকে। এই ঘটনাটি বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলোর নিরপেক্ষতা নিয়ে আবারও বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
