জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) নবনিযুক্ত উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দুই শিক্ষককে লাঞ্ছিত ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিক্ষকরা হলেন গণিত বিভাগের অধ্যাপক আবু হানিফ এবং সমাজকর্ম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শরিফুল ইসলাম।
অধ্যাপক আবু হানিফ অভিযোগ করেন, নবনিযুক্ত উপাচার্যের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গেলে ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেলসহ ২০-২৫ জন নেতাকর্মী তাঁর গতিরোধ করেন। এ সময় হিমেল তাঁকে বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে জেরা করতে থাকেন। একপর্যায়ে শিক্ষকরা প্রতিবাদ করলে তাঁদের মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় এবং অধ্যাপক আবু হানিফকে ধাক্কা দিয়ে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়।
আরেক ভুক্তভোগী শিক্ষক ড. শরিফুল ইসলাম জানান, ছাত্রদল নেতারা তাঁদের সঙ্গে অত্যন্ত ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছেন। রাজনৈতিক পরিচয় জানার পরও তাঁদের ‘জামায়াত’ ট্যাগ দিয়ে হেনস্তা করা হয় এবং শিক্ষামন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করা হয়। বর্তমানে তাঁরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন উল্লেখ করে নবনিযুক্ত উপাচার্যের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইচ উদ্দিন বিষয়টিকে অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক বলে অভিহিত করেছেন।
এদিকে, জকসুর এজিএস মাসুদ রানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল থেকে শিক্ষকদের একজনকে উদ্ধার করার ব্যবস্থা করেন। অন্যদিকে, অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান হিমেলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
তবে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এই ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত বললেও শিক্ষকদের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন। তিনি দাবি করেন, ভুক্তভোগী শিক্ষকরা মূলত বিএনপিপন্থি নন, বরং জামায়াতপন্থী। আজ বিএনপি ক্ষমতায় দেখে তাঁরা নিজেদের ভোল পাল্টাচ্ছেন। ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে কেবল কথা কাটাকাটি হয়েছে দাবি করে তিনি উল্টো শিক্ষকদের পক্ষ থেকে দেওয়া হুমকির বিচার দাবি করেন।
