গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে এক সুইডিশ নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। বুধবার (১৮ মার্চ) সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া মালমার স্টেনারগার্ড এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুইডেন এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রক্রিয়াকে ‘অন্যায্য’ বলে অভিহিত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
সুইডেন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ওই নাগরিকের নাম প্রকাশ না করলেও ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম তাঁকে ‘কুরোশ কেয়ভানি’ হিসেবে শনাক্ত করেছে। কেয়ভানি সুইডেন ও ইরানের দ্বৈত নাগরিক ছিলেন। গত বছর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাঁর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের পক্ষে গোয়েন্দা সহযোগিতা ও গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ আনা হয়।
সুইডিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া মালমার স্টেনারগার্ড জানান, ২০২৫ সালের জুনে কেয়ভানিকে গ্রেপ্তারের পর থেকেই সুইডেন সরকার ইরানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে আসছিল। প্রতিটি আলোচনায় তাঁর জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং মৃত্যুদণ্ড না দেওয়ার আহ্বান জানানো হলেও ইরান তা আমলে নেয়নি।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, ২০২৬ সালে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে কেয়ভানি তৃতীয় ব্যক্তি। নরওয়েভিত্তিক একটি সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর একই অভিযোগে ইরানে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। বর্তমানে দেশটিতে আরও শতাধিক বন্দি মৃত্যুদণ্ডের অপেক্ষায় রয়েছেন, যাদের বড় অংশই রাজনৈতিক বন্দি।
সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই শাস্তিকে ‘অমানবিক, নিষ্ঠুর এবং অপরিবর্তনীয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি আরও জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সমন্বয় করে সুইডেন সব পরিস্থিতিতেই এই ধরনের দণ্ড প্রয়োগের নিন্দা অব্যাহত রাখবে এবং ইরানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরবে।
