দীর্ঘদিনের সীমান্ত উত্তেজনা এবং কাবুলে ভয়াবহ প্রাণঘাতী হামলার প্রেক্ষাপটে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের বিশেষ অনুরোধে এবং সদিচ্ছার নিদর্শন হিসেবে দুই দেশ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বুধবার মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া এই বিরতি আগামী ২৩শে মার্চ মধ্যরাত পর্যন্ত মোট ৫ দিন কার্যকর থাকবে।
এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণার মাত্র দুই দিন আগে কাবুলের ‘ক্যাম্প ফিনিক্স’ নামক একটি সাবেক ন্যাটো ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান। বর্তমানে মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত এই স্থানে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। তালেবান সরকারের দাবি, সোমবার (১৬ মার্চ) রাতের ওই হামলায় ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং ২৬৫ জন আহত হয়েছেন।
তালেবানের মতে, আক্রান্ত স্থানটি একটি বেসামরিক পুনর্বাসন কেন্দ্র ছিল। তবে জাতিসংঘের তথ্যমতে, নিহতের সংখ্যা ১৪৩ এবং আহত ১১৯ জন। পাকিস্তান এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তারা কোনো বেসামরিক কেন্দ্রে নয়, বরং সন্ত্রাসীদের গোলাবারুদ, ড্রোন এবং আত্মঘাতী হামলাকারীদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছে।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এবং তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ পৃথক বার্তায় ৫ দিনের এই যুদ্ধবিরতির কথা নিশ্চিত করেছেন। পাকিস্তান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই সময়ের মধ্যে যদি কোনো আন্তঃসীমান্ত হামলা বা ড্রোন হামলা হয়, তবে তারা তাৎক্ষণিকভাবে পুনরায় অভিযান শুরু করবে। একইভাবে তালেবানও যেকোনো বিদেশি আগ্রাসনের দাঁতভাঙা জবাব দিতে প্রস্তুত বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
এক সময় ঘনিষ্ঠ মিত্র থাকলেও গত এক বছর ধরে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। ইসলামাবাদের অভিযোগ, আফগান তালেবানরা পাকিস্তানে হামলা চালানো টিটিপি জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয় দিচ্ছে। অন্যদিকে তালেবান এই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। চীনসহ বিভিন্ন দেশ মধ্যস্থতার চেষ্টা করলেও গত মাসে পাকিস্তানের সরাসরি বিমান হামলার পর পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল রূপ ধারণ করেছে।
