ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) জুলাই অভ্যুত্থানবিরোধী ভূমিকার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ১৯ জন শিক্ষক এবং ১১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর শাস্তি মওকুফ করা হয়েছে। বুধবার (১৮ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একাধিক সিন্ডিকেট সদস্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত ৩০ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭১তম সিন্ডিকেট সভায় ১৯ জন শিক্ষক ও ১১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। একই সঙ্গে ৩৩ জন শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব বাতিল ও সনদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তৎকালীন প্রশাসন। তবে এবারের জরুরি সভায় শিক্ষক-কর্মকর্তাদের শাস্তি মওকুফ করা হলেও বহিষ্কৃত ওই ৩৩ শিক্ষার্থীর বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত অক্টোবর মাসে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পর অভিযোগের ধরন পর্যালোচনা এবং দণ্ডের মাত্রা পুনর্নির্ধারণের জন্য একটি ‘রিভিউ কমিটি’ গঠন করেছিলেন উপাচার্য। ওই কমিটির দেওয়া রিপোর্ট পরবর্তীতে একজন অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজের কাছে আইনি মতামতের জন্য পাঠানো হয়।
অবসরপ্রাপ্ত ওই বিচারক প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট, অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্য এবং রিভিউ কমিটির পর্যবেক্ষণ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করে তাঁর মতামত প্রদান করেন। সেই আইনি মতামতের ভিত্তিতেই বুধবারের সিন্ডিকেট সভায় অভিযুক্ত ৩০ জন শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দায়মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
তবে একই অভিযোগে অভিযুক্ত ৩৩ জন শিক্ষার্থীর ভাগ্য এখনো ঝুলে রয়েছে। সিন্ডিকেট সভায় তাঁদের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হলেও কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ফলে শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারাদেশ বহাল থাকছে নাকি তাঁদেরও শাস্তি মওকুফ করা হবে, তা জানতে পরবর্তী সভার দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে।
