ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতি নিয়ে জানিয়েছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান এই যুদ্ধ আসলে কোনো পক্ষই চায়নি, বরং এটি উভয় দেশের ওপর ‘চাপিয়ে দেওয়া’ হয়েছে।
আরাঘচি বলেন, ইরান কখনোই কোনো যুদ্ধ শুরু করতে চায়নি এবং অহেতুক রক্তপাত এড়াতে তেহরান সবসময় ধৈর্য ধারণ করেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলি উসকানি এবং সরাসরি হামলার কারণে পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে ইরানকে বাধ্য হয়েই আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই অনাকাঙ্ক্ষিত যুদ্ধ কেবল ইরান নয়, আমেরিকানদের ওপরও এক প্রকার চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আরাঘচির মতে, এই সংঘাতের নেপথ্যে নির্দিষ্ট কিছু পক্ষ উসকানি দিচ্ছে যারা পুরো অঞ্চলে অস্থিরতা জিইয়ে রাখতে চায়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, ইরান শান্তি চায়, তবে তার মানে এই নয় যে তারা সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপস করবে। যদি তেহরানের ওপর আরও চাপ প্রয়োগ করা হয় বা পুনরায় হামলা চালানো হয়, তবে তার জবাব হবে অত্যন্ত কঠোর। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই ‘চাপিয়ে দেওয়া’ যুদ্ধ বন্ধে কার্যকরী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
বিবৃতির শেষে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত স্থিতিশীলতা ফিরে আসা কঠিন। এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক সংকটে রূপ নিতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
