পাকিস্তানের দ্রুত অগ্রসরমাণ ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা তুলসী গ্যাবার্ড সতর্ক করে জানিয়েছেন, পাকিস্তানের আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডেও আঘাত হানার সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। এক লিখিত প্রতিবেদনে তিনি এই আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন।
তুলসী গ্যাবার্ড পাকিস্তানকে রাশিয়া, চীন, উত্তর কোরিয়া ও ইরানের সঙ্গে একই সারিতে রেখে বলেন, এই পাঁচটি দেশ উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা ও উন্নয়ন চালিয়ে যাচ্ছে। এসব দেশ পারমাণবিক ও প্রচলিত—উভয় ধরনের ওয়ারহেড বহনে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
আইনপ্রণেতাদের সামনে দেওয়া বক্তব্যে গ্যাবার্ড বলেন, পাকিস্তানের দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা এতই বেশি যে তা দক্ষিণ এশিয়ার সীমানা ছাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম হবে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, পাকিস্তান ক্রমবর্ধমানভাবে উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে তারা এমন আইসিবিএম তৈরি করতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে। এর মাধ্যমে গণবিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহারের নতুন বিকল্প তৈরি হচ্ছে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলকে ‘দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের অঞ্চল’ হিসেবে চিহ্নিত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা পারমাণবিক সংঘাতের ঝুঁকি জিইয়ে রাখছে। এই দুই দেশের বৈরী সম্পর্ক যেকোনো সময় বড় ধরনের আঞ্চলিক বা বৈশ্বিক সংকটে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এমন উদ্বেগের বিষয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সাবেক ব্রিগেডিয়ার ও পরমাণু বিশেষজ্ঞ তুঘরাল ইয়ামিন বলেন, এমন উদ্বেগ নতুন কিছু নয়। পাকিস্তান বরাবরই বলে আসছে যে, তাদের সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতা শুধুমাত্র ভারতের দিক থেকে আসা হুমকি মোকাবিলার লক্ষ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে।
