ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) একটি সাম্প্রতিক মূল্যায়নে জানানো হয়েছে যে, ইরানের সঙ্গে চলমান এই যুদ্ধ শেষে দেশটিতে আগের চেয়ে আরও বেশি কট্টরপন্থী এবং পারমাণবিক শক্তিসমৃদ্ধ একটি শাসনব্যবস্থা তৈরি হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। বৃহস্পতিবার আইডিএফ সূত্র এই সতর্কবার্তা প্রদান করে।
আইডিএফ স্পষ্ট করেছে যে, এটি কোনো নিশ্চিত পূর্বাভাস নয়, বরং যুদ্ধের বর্তমান সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য বিভিন্ন পরিণতির একটি সৎ বিশ্লেষণ। ১০ হাজারেরও বেশি ইসরায়েলি এবং ৮ হাজার মার্কিন হামলা ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা উপড়ে ফেলার জন্য যথেষ্ট কি না, তা নিয়ে খোদ আইডিএফ কর্মকর্তাদের মধ্যেই সংশয় রয়েছে।
ইসরায়েলি বিমানবাহিনী শুরুতে ইরানের শীর্ষ নেতা, আকাশ প্রতিরক্ষা এবং ব্যালিস্টিক মিসাইল ধ্বংসের ওপর জোর দিলেও বর্তমানে তাদের লক্ষ্য পরিবর্তিত হয়েছে। এখন আইআরজিসি, বাসিজ এবং গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের মতো কমান্ড কেন্দ্রগুলো ধ্বংসের দিকে মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে, যা মূলত সে দেশে অভ্যন্তরীণ বিরোধী দমনের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে।
তবে ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। ইসফাহান ও পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে থাকা ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এখনো অক্ষত রয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকার সবচেয়ে আধুনিক ‘বাঙ্কার ব্লাস্টার’ বোমা দিয়েও এই ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলো ধ্বংস করা হয়তো সম্ভব হবে না।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও বড় পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। মোজতবা খামেনিকে তাঁর বাবার চেয়েও বেশি কট্টর এবং পশ্চিম-বিদ্বেষী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, আলী লারিজানির মৃত্যুর পর সাঈদ জালিলির মতো কট্টরপন্থী নেতার ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই দুই নেতার সমন্বয় পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
ইসরায়েলি নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, পারমাণবিক সক্ষমতা এবং কট্টরপন্থী নেতৃত্বের এই মেলবন্ধন ভবিষ্যতে একটি ‘দুঃস্বপ্নের পরিস্থিতি’ তৈরি করতে পারে। যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগে এই পারমাণবিক হুমকি পুরোপুরি মোকাবিলা করা সম্ভব হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেনি আইডিএফ।
