মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এক নজিরবিহীন পদক্ষেপের কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান থেকে নির্দিষ্ট কিছু তেলের ওপর আরোপিত দীর্ঘদিনের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়টি এখন ওয়াশিংটনের বিবেচনায় রয়েছে। এর মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজারে তেলের সরবরাহ বাড়িয়ে দাম স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করা হতে পারে।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের কিছু তেলের ওপর থেকে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের জন্য তেলের প্রাপ্যতা বাড়বে এবং বাজারের অস্থিরতা কমবে।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তটি যদি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়, তবে তা হবে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্যিক নীতির সম্পূর্ণ বিপরীত। কারণ ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে চাপে রাখতেই এই নিষেধাজ্ঞাগুলো আরোপ করা হয়েছিল।
তবে সামরিক ও অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এমন পদক্ষেপ তেলের দামে খুব সামান্যই প্রভাব ফেলতে পারে। উল্টো এতে খামেনি শাসিত ইরান তেল বিক্রি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করার সুযোগ পাবে, যা তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের রসদ হিসেবে ব্যয় করতে পারে।
ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থাকায় বর্তমানে দেশটি থেকে কিছু দেশ তুলনামূলক কম দামে তেল কিনছে। তবে মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হলেও চীন যাতে বাজারমূল্যে তেল কেনে, সেটি নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে ওয়াশিংটন। এতে ইরানের বাড়তি মুনাফা করার পথ কিছুটা সংকুচিত করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে সাগরে ভাসমান অবস্থায় থাকা ইরানের তেলের ওপর থেকেই মূলত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, সাগরে বর্তমানে ইরানের প্রায় ১৪২ মিলিয়ন ব্যারেল তেলের বিশাল মজুত রয়েছে। এই তেল বাজারে এলে ভারত, জাপান ও মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলো বর্তমান সংকটময় সময়ে বড় ধরণের স্বস্তি পেতে পারে।
